01714584920

01714584920

ALL DEPARTMENTS


Category: BOOKS | মুক্তিযুদ্ধ | সময় প্রকাশন

মুক্তিযুদ্ধ’৭১ গোলাম মহিউদ্দীন

Price: BDT 280.00


BUY NOW

---

 

 গোলাম মহিউদ্দীন এর মুক্তিযুদ্ধ’৭১ অরিজিনাল বইটি সংগ্রহ করুন বই বিক্রয় ডট কম থেকে।সর্বোচ্চ ছাড়ে বই কিনুন এবং বই হাতে পেয়ে মুল্য পরিশোধ করুন।

 

  •  Price:TK.350.00
  • Our price:TK. 280(20%OFF)
  • Number of pages:166
  • Edition:1st Published ,2019

বইটির ভূমিকা

বীরমুক্তিযােদ্ধা গােলাম মহীউদ্দীনের লেখা মুক্তিযুদ্ধ ‘৭১ বাংলাদেশের। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। প্রকৃতপক্ষে এ বইটি লেখা হয়েছে তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ, দোহার, নবাবগঞ্জ ও সন্নিহিত অঞ্চলের স্থানীয় মুক্তিযােদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরােধ সংগ্রাম ও হানাদার পাকিস্তান বাহিনীকে বিপুল বিক্রমে পরাস্ত-পযুদস্ত করার রােমাঞ্চকর কাহিনি বর্ণনার মাধ্যমে। পূর্ব বাংলার বাঙালির এই বিস্ময়কর বিজয়ের মূলে যে উপাদানগুলাে অনুঘটকের কাজ করে তা হলাে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে গােটা বাঙালি কম্যুনিটিকে একটি স্বাধীনতার জন্য জীবনপণ সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ জাতিতে পরিণত করার শক্তি; দ্বিতীয়ত ২৬শে মার্চ ১৯৭১-এর প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি দখলদারদের গণহত্যা শুরু করার পরপরই বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘােষণা করা; তৃতীয়ত গােটা জাতির এই হাজার বছরের স্বপ্নের স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘােষণাকে বাস্তবে রূপ দেবার সম্মিলিত অঙ্গীকারদীপ্ত আকাঙ্ক্ষায়। সেজন্যই মুক্তিযুদ্ধের প্রায় সকল ঘটনার বর্ণনায় পাই প্রতিরােধ যুদ্ধই হােক আর মুক্তিযােদ্ধাদের অপারেশন বা সম্মুখযুদ্ধ সকল ক্ষেত্রেই নারীপুরুষ নির্বিশেষে সমগ্র জনগণ মুক্তিযােদ্ধাদের পেছনে একাট্টা হয়ে দাঁড়ায়, ফলে মুক্তিযুদ্ধ হয়ে পড়ে জনযুদ্ধ।

মহীউদ্দীন সাহেবদের যুদ্ধ এলাকার ভূগােলের বিস্তার কালীগঙ্গা, ধলেশ্বরী থেকে সর্বদক্ষিণে ইছামতি, পদ্মা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত হলেও তারা মূলত মানিকগঞ্জ অঞ্চলে একের পর এক যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন এবং তাদের দলের যােদ্ধারা দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। অসমসাহসিকতায় ও অনন্য শৌর্য-বীর্যে। বর্তমান বইটি তার এক চমৎকার আলেখ্য। এতে যেমন এই অঞ্চলের মূল অধিনায়ক ক্যাপ্টেন আব্দুল হালিম চৌধুরীর যুদ্ধ পরিচালনার দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলির। কথা আছে তেমনি আছে সকল মুক্তিযােদ্ধার কোনাে না কোনাে ঘটনা,

বা বীরত্বের কথা, আছে সশ্রদ্ধচিত্তে শহিদদের বীরত্বগাথার কথা | বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনায় এ-বইয়ের বস্তুনিষ্ঠ বয়ান, তথ্য-উপাত্ত বিশেষ সহায়ক ও প্রয়ােজনীয় বিবেচিত হবে। আমরা এই তথ্যসমৃদ্ধ বইটির লেখক বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, মূলত যােদ্ধা এবং মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গােলাম মহীউদ্দীনকে অভিনন্দন জানাই।

ড. শামসুজ্জামান খান

 

 

এডভােকেট গােলাম মহীউদ্দীন-এর জন্য ৪ এপ্রিল ১৯৫২। রামকৃষ্ণপুর। ভাটিকান্দি, ডাকঘর-লেছড়াগঞ্জ, থানা-হরিরামপুর, জেলা-মানিকগঞ্জ-এ। পিতা-মরহুম গােলজার হােসেন, মাতা-মরহুম রাবেয়া বেগম। বর্তমানে গ্রাম-আন্ধারমানিক, ডাকঘর-হরিরামপুর, উপজেলা-হরিরামপুর, জেলামানিকগঞ্জ ও ৪ গার্লস স্কুল রােড, মানিকগঞ্জে বসবাস। প্রাথমিক শিক্ষা রামকৃষ্ণপুর ভাটিকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লেছড়াগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মাধ্যমিক শিক্ষা পাটগ্রাম অনাথ বন্ধু আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়, হরিরামপুর ও নাজনীন হাইস্কুল, গ্রিন রােড তেজগাঁও, ঢাকা-তে। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ, মানিকগঞ্জে । গণিত শাস্ত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১ম পর্বে উন্নীত। ১৯৭৫ সালে। জাতির জনকের মৃত্যুর পর হুলিয়া জারির কারণে আত্মগােপনে থাকেন। ১৯৬৬ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘােষিত ছয়দফা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ। পুলিশি নির্যাতনের শিকার হলেও ঐ সময়ে হরিরামপুর থানা ছাত্রলীগের তিনি দফতর সম্পাদক। ১৯৬৮ সালে হরিরামপুর থানা ছাত্রলীগ-এর সাধারণ সম্পাদক ও একই সাথে দেবেন্দ্র কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন। ১৯৬৯-৭০ সালে মানিকগঞ্জ মহকুমা ছাত্রলীগ শিক্ষা পাঠচক্র ও এছনা প্রকাশনা সম্পাদক। ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় বলিষ্ঠ অংশগ্রহণ করে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সম্মুখ ও গেরিলা যুদ্ধে নেতৃত্ব। দেন। যুদ্ধকালীন সময়ে মানিকগঞ্জ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে আলফা। কোম্পানির কমান্ডার ছিলেন। ১৯৭২ সালে হরিরামপুর থানা ছাত্রলীগ সভাপতি ও জেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু ঘােষিত বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন জাতীয় ছাত্রলীগের মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শাহাদৎ বরণের পর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রচারপত্র প্রকাশ ও ব্যাপকভাবে প্রচারে নিবিষ্ট থাকেন। ঝুঁকিপূর্ণ দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে চরম দুঃসময়ে। দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিরােধ গড়ে তােলা ও প্রথম প্রতিবাদ মিছিলে অংশগ্রহণ ।

১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সংসদের সদস্য ও দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জনাব ওবায়দুল কাদের-এর নেতৃত্বে। ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ১ম সহ-সভাপতি। ছাত্র রাজনীতি করা কালীন বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর সভাপতি নির্বাচন। অপরিহার্য-আন্দোলনে দেশব্যাপী সক্রিয় ভূমিকা পালন। ১৯৭৭ সালে মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং ১৯৮০ সালে। প্রচার সম্পাদক। তিনি ১৯৮৪ সালে নির্বাচিত হয়ে মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের এক নাগাড়ে ৩ টার্ম, ২০০৩ সাল পর্যন্ত মােট ১৯ বছর সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল থাকেন। ২০০৩ সাল থেকে মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচিত হন। ১/১১-এর দুঃসময়ে রাষ্ট্রের এবং দলের ক্রান্তিকালে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন কারাগারে তখন দুঃসাহসিক ভূমিকা পালন করেন। তাকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরত্ন জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮৬, ১৯৯১, ২০০১ সালে জাতীয় সংসদে ১৭৩-মানিকগঞ্জ-২ আসনে মনােনয়ন দেন। অবৈধ অর্থ ও ষড়যন্ত্রের কাছে তিনি পরাজিত হন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নিমর্ম হত্যাকাণ্ডের পর মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের উপর অত্যাচার নির্যাতন নেমে আসলে চরম দুরবস্থার মধ্যে নিপতিত হলে তিনি শক্ত হাতে সংগঠনকে গতিশীল করেন এবং জেলার প্রত্যেক ইউনিয়নের তৃণমূল ত্যাগী নেতা কর্মীদের সংগঠিত করেন। জীবনে কোনােদিন দলছুট হননি বা দল ত্যাগ করেননি। জাতির জনক। বঙ্গবন্ধুর আর্দশ এবং দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস রেখে অত্যন্ত সাদামাটা তাঁর জীবন যাপন। মানুষের সঙ্গে হাসি মুখে দৃঢ়তার সঙ্গে সংগঠনও পরিচালনা করছেন। তিনি বিচারপতি নূরুল ইসলাম কলেজের সভাপতি, মানিকগঞ্জ কামিল মাদ্রাসার সহ-সভাপতি এবং দক্ষিণ চাদপুর হাইস্কুলের সাবেক সভাপতি। হরিরামপুর উপজেলার চালা ইউনিয়নের ইজদিয়া গ্রামে গােলাম মহীউদ্দীন কমল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং বিভিন্ন সমাজসেবা মূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। ২০১১-এর ১৫ ডিসেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে তাকে নিয়ােগ দেন। ২৮ ডিসেম্বর ২০১৬ সালে জেলা পরিষদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সুনামের সাথে। দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মানিকগঞ্জ জেলা রেডক্রিসেন্ট-এর ও চেয়ারম্যান।

ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, ইটালি, ফ্রান্স , গ্রিস সফর করেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভ্রমণ করেন। তার দুই কন্যা, মৌসুমী আক্তার ও ডা. নাজমুন নাহার মুনমুন এবং অধ্যয়নরত একপুত্র শাহ নেওয়াজ মহীউদ্দীন শােভন-এর জনক। তার। স্ত্রী সামছুন নাহার বেগম কমল ২০০৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ইন্তেকাল করেন। তিনি ২০১০ ও ২০১৭-তে হজ্বব্রত পালন করেন। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : বিক্ষোভ (১৯৭৪)।