01714584920

01714584920

ALL DEPARTMENTS


Category: BOOKS | ইসলামি বই | ইসলামী বিধি-বিধান ও মাসআলা-মাসায়েল

বেহেশতী জেওর (১ম-১১ম খন্ড একত্রে)

Price: BDT 350.00


BUY NOW

---

 

 

    رحكميم أم مولانا أشرف علي ثانفي(হাকীমূল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.)এর অরিজিনাল বেহেশতী জেওর বইটি সংগ্রহ করুন বই বিক্রয় ডট কম থেকে।সর্বোচ্চ ছাড়ে বই কিনুন এবং বই হাতে পেয়ে মুল্য পরিশোধ করুন।

 

  •  Our price:TK.350 (50%OFF)

 

  •  Price:TK.700
  •  Edition:2nd Edition ,2016
  • Category:ইসলামী বিধি-বিধান ও মাসআলা-মাসায়েল
  • Language:Bangla
  • ISBN:9789848848739
  • Number of pages:872

বেহেশতী জেওর

হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (র.) বংশ পরিচিতিঃভারতের আগ্রা এবং অযােধ্যা যুক্ত প্রদেশের মুজাফফর নগর জেলার অতি পরিচিত শহর থানা ভবনে ফারূকী বংশের চারটি গােত্রের লােক বসবাস করতেন । তার মধ্যে অন্যতম গােত্র ছিল খতীব গােত্র। থানা ভবনে আশরাফ আলী থানভী (র.)-এর ঊর্ধ্বতন পুরুষ ছিলেন, সুলতান শিহাবুদ্দীন ফররুখ শাহ্ কাবুলী। থানা ভবনের অন্যতম বুযুর্গ ও অলীয়ে কামেলগণ জন্মগ্রহণ করেছেন এ বংশে। তাই ফারূকী হলাে হযরত থানভী (র.)-এর পিতৃকুল। এ বংশেই জন্মলাভ করেছিলেন হযরত মােজাদ্দেদে আলফেসানী, শায়খ জালালুদ্দীন থানেশ্বরী, শায়খ ফরিদুদ্দীন গঞ্জেশকর প্রমুখ প্রখ্যাত বুযুর্গ।।

হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (র.)-এর পিতা জনাব মুন্সি আবদুল হক সাহেব ছিলেন একজন প্রভাবশালী ধনবান লােক। তিনি ছিলেন নামকরা দানশীল ও ফাসী ভাষায় উচ্চস্তরের একজন পণ্ডিত। এ ছাড়া তিনি একজন বিচক্ষণ, দূরদর্শী ও উঁচুমানের সাধকও ছিলেন।

ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা)-এর বংশধর ছিল তার মাতৃকুল। মাওলানা থানভী (র.) ছিলেন একজন দ্বীনদার আর আল্লাহর অলী। তাঁর মাতুল ছিলেন। উচু স্তরের বুযুর্গ ও অলীয়ে কামেল পীরজী এমদাদ আলী সাহেব । নানা মীর নজাবত আলী সাহেব ছিলেন ফার্সী ভাষায় পণ্ডিত ও লব্ধপ্রতিষ্ঠিত প্রবন্ধকার। উপস্থিত বুদ্ধি প্রয়ােগক্ষমতা ছিল তাঁর একটি অন্যতম গুণ । তিনি ছিলেন মাওলানা শাহ নেয়ায আহমদ বেরলভীর একজন বিশিষ্ট খলিফার মুরীদ। প্রখ্যাত বুযুর্গ হাফেজ মাের্তজা সাহেবের সাথেও আধ্যাত্মিক সম্পর্ক ছিল বলে তিনি বেলায়েতের দরজায় পৌছেন। এমনই এক সম্রান্ত ও প্রখ্যাত বংশে হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (র.) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন খুব দূরদর্শী, সূক্ষ্মদর্শী, দৃঢ়চেতা, স্বাবলম্বী, সত্যপরায়ণ, পরহেজগার, ন্যায়পরায়ণ এসব মানবীয় গুণসম্পন্ন। পৈত্রিক সূত্রে এ মহৎ গুণাবলি তিনি হযরত ওমর ফারূক (রা) থেকে পেয়েছেন। আর মারেফাতের মূল্যবান রত্ন মাতৃকুল অর্থাৎ হযরত আলী (রা) থেকে লাভ করেন।।

জন্ম বৃত্তান্ত ও হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (র.)-এর জন্ম এক অলৌকিক ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত। তাঁর পিতার কোন পুত্র সন্তান জীবিত থাকত না। তা ছাড়া তিনি এক দুরারােগ্য চর্মরােগের জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শে এমন এক ওষুধ সেবন করেন যার ফলে তাঁর প্রজনন ক্ষমতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। তাতে হযরত থানভী (র.)-এর মাতামহী (নানী) খুবই বিচলিত হয়ে পড়েন। একদা তিনি হযরত হাফেজ গােলাম মাের্তজা পানিপথির কাছে এ বিষয়টি ব্যক্ত করেন। হাফেয সাহেব ছিলেন মজযূব। তিনি বললেন, হযরত ওমর (রা) আর হযরত আলী (রা)-এর টানাটানিতেই সন্তানগুলাে মৃত্যু বরণ করে। এখন পুত্র সন্তান হলে হযরত আলী (রা)-এর হাওলা করে দিও। ইনশাআল্লাহ্ বেঁচে থাকবে। তাঁর হেয়ালী কেউই বুঝতে সক্ষম হলেন না। তাঁর কথার মর্মকথা শুধুমাত্র মাওলানার বুদ্ধিমত জননীই বুঝতে পারলেন, তিনি বললেন, হাফেজ সাহেবের কথার মর্মার্থ সম্ভবত এই হবে যে, ছেলেদের পিতৃকুল ফারূকী বংশধর আর আমি হযরত আলী (রা)-এর

বংশধর। এ যাবৎকাল পুত্র সন্তানদের নাম পিতার নামানুসারে অর্থাৎ হক শব্দযােগে = হয়েছিল। যে রকম ফজলে হক, আবদুল হক এসব। এবার পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করতে মাতৃকুল অনুযায়ী নাম রাখতে হবে। অর্থাৎ আমার ঊর্ধ্বতন পূর্ব পুরুষ হযরত আলী (রা), এর নামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নামকরণের কথা বলছেন। এ কথা শুনে হাফেজ সাতের হাসিমুখে বলে উঠলেন, মারহাবা! মেয়েটি অন্যান্য বুদ্ধিমতী বলে মনে হয়। আমার উদ্দেশ এটাই ছিল। এর গর্ভে দুটি ছেলে হবে। ইনশাআল্লাহ উভয়ই বেঁচে থাকবে আর ভাগ্যবান হবে। একজনের নাম আশরাফ আলী আর অপরজনের নাম আকবর আলী রাখতে একজন হবে আমার অনুসারী। সে হবে আলেমে দ্বীন ও হাফেজ। অন্যজন হবে পৃথিবীর অনুসারী। বাস্তুতঃ হয়েছিলও তাই। মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (র.) মাতগর্ভে আবির্ভাবের পূর্বে অর্থাৎ আলমে আরওয়াহে অবস্থানকালেই আল্লাহ তায়ালা এক বুযুর্গের মাধ্যমে তার নাম রেখে দিলেন। মহান আল্লাহ পাকের কত বড় মেহেরবানী! কতই না। সৌভাগ্যের ব্যাপার।

জন্ম : ১২৮০ হিজরীর ৫ই রবিউস সানী রােজ বুধবার সুবহে সাদেকের সময় আশরাফ আলী থানভী (রঃ) জন্মগ্রহণ করেন। হযরত হাফেয গােলাম মাের্তজা (র.)-এর নির্দেশক্রমে নবজাতকের নাম রাখলেন “আশরাফ আলী” তার ছােট ভাই আকবর আলীর জন্ম হয় তার জন্মের ১৪ মাস পর । থানা ভবনের অধিবাসী এজন্যই তিনি থানভী বলে। অভিহিত হন।

শৈশবকালঃ মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (র.) বয়স যে সময় পাঁচ বছর, সে সময় তাঁর পুণ্যবতী স্নেহময়ী মা ইন্তেকাল করে পরপারে গমন করেন। ফলে আশৈশব দু’ভাই মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হলেন। কিন্তু স্নেহ পরায়ণ মায়ের মত স্নেহময় পিতা উভয় শিশুরই লালন-পালন এবং তালীম-তরবিয়ত যত্নের সাথে দিতে থাকলেন। তিনি সন্তানদের অত্যন্ত আদর করতেন। আপন হাতে গােসল করাতেন এবং খাওয়াতেন। পিতার অপরিসীম আদর যত্নের কারণে কখনােই মায়ের বিয়ােগ ব্যথার কথা দুভাইয়ের অনুভব হয়নি।

শিশুকাল থেকেই হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (র.)-এর চাল-চলন, আচার-আচরণ ছিল পাক-পবিত্র এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। তিনি বাইরের ছেলেদের সাথে কখনােই খেলাধুলা করতেন না। ছােট ভাই আকবর আলীকে নিয়ে নিজ বাড়ীর সীমানার মধ্যেই খেলাধূলা করতেন আর খেলাধুলার সময় কাপড়ে অথবা গায়ে ধুলাবালি লাগা থেকে সব সময় সতর্ক থাকতেন। কখনাে কখনাে বৃষ্টির পানিতে ভিজে দু’ভাই আনন্দ উপভােগ করতেন। তিনি শৈশবকালে খুব শান্ত ও সুশীল স্বভাবের ছিলেন। তার মধুময় ব্যবহারে অমুসলিমরাও তাকে স্নেহের চোখে দেখতাে।

ছােট ছােট ছেলেরা সাধারণত মসজিদে অথবা কোন উৎসব উপলক্ষে শিরনী মিঠাই এসব পাওয়ার সুযােগ খুঁজে থাকে। কিন্ত হযরত মাওলানা থানভী (র.)-এর বিচক্ষণ এবং দূরদর্শী পিতা মােটেই তা পছন্দ করতেন না। তার পিতা বাজার থেকে মিঠাই এনে এ ছেলের হাতে দিয়ে বলতেন, মিঠাইর জন্য মসজিদে যাওয়া লজ্জার কথা। তার মেধাশ খুব প্রখর ছিল । বিদ্যালয়ের প্রতিদিনের পড়া তিনি সহজেই মুখস্থ করে ফেলতেন।