01714584920

01714584920

ALL DEPARTMENTS


Category: BOOKS | জ্ঞানকোষ প্রকাশনী | মুহম্মদ জাফর ইকবাল

বিগ ব্যাং থেকে হোমো স্যাপিয়েনস

Price: BDT 140.00


BUY NOW

---

মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর বিগ ব্যাং থেকে হোমো স্যাপিয়েনস অরিজিনাল বইটি সংগ্রহ করুন বই বিক্রয় ডট কম থেকে। সর্বোচ্চ ছাড়ে বই কিনুন এবং বই হাতে পেয়ে মূল্য পরিশোধ করুন।

  •  Our price:  TK.140(20%OFF)
  •  Price:  TK.175
  •  Author:   মুহম্মদ জাফর ইকবাল
  • First Published:February 2018
  • Category:  মহাকাশ বিজ্ঞানও জ্যোতিবিদ্যা
  • Language:   Bangla
  • ISBN:    9789849352693
  • Number of pages:216
  • Country:  Bangladesh
  • Publisher: জ্ঞানকোষ প্রকাশনী

রাতের আকাশে রয়েছে নক্ষত্র এবং নক্ষত্র। ভালাে করে লক্ষ করলে আমরা ছায়াপথটি দেখতে পাব, সেটি হচ্ছে আমাদের গ্যালাক্সি।

রাতের আকাশ

আমরা যদি রাতের আকাশের দিকে তাকাই সেখানে অসংখ্য নক্ষত্রকে ঝিকিমিকি করতে দেখি। পৃথিবীতে একজন মানুষও খুঁজে পাওয়া যাবে না যে নাকী রাতের আকাশের সেই অসংখ্য মিটি মিটি তারা দেখে অবাক হয়নি। একজন পাওয়া যাবে না যে নাকী অবাক হয়ে ভাবেনি এই তারাগুলাে কতদূরে? কোথা থেকে এসেছে? কেন এরকম মিট মিট করে জ্বলছে? | আকাশে যখন চাঁদ নেই, মেঘ নেই তখন সেই ঘুটঘুটে অন্ধকারে আকাশের এক মাথা থেকে অন্য মাথায় অসংখ্য নক্ষত্রকে কুয়াশার সাদা চাদরের মতাে বিস্তৃত হয়ে থাকতে দেখি। এটি হচ্ছে ছায়াপথ, আমাদের গ্যালাক্সি। আমরা এই গ্যালাক্সির ভেতর থেকে এটাকে দেখি বলে এটাকে কুয়াশার সাদা চাদরের মতাে কিংবা এরকম ধূসর একটি পথের মতাে দেখায়।

ভালাে টেলিস্কোপ দিয়ে মহাকাশের আরাে গভীরে তাকাই তাহলে দেখব আরাে অনেক গ্যালাক্সি। এক কথায়, মনে হবে গ্যালাক্সির বুঝি কোনাে শেষ নেই। অনুমান করা হয় বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের যে অংশটুকু আমরা দেখতে পাই, সেখানে প্রায় এক ট্রিলিওন গ্যালাক্সি রয়েছে। (যারা মিলিওন, বিলিওন কিংবা ট্রিলিওন ব্যবহার করে অভ্যস্ত নয়, যারা লক্ষ এবং কোটিতে সংখ্যা প্রকাশ করে অভ্যস্ত তাদের জন্যে মনে করিয়ে দেয়া যায়, এক মিলিওন হচ্ছে দশ লক্ষ আর এক বিলিওন হচ্ছে একশ কোটি। কিংবা অন্যভাবে, হাজারটি হাজার হচ্ছে মিলিওন, হাজারটি মিলিওন হচ্ছে বিলিওন এবং হাজারটি বিলিওন হচ্ছে ট্রিলিওন। এর সাথে আরাে একটা বিষয় তাদের মনে করিয়ে দেয়া যায়, বিজ্ঞানের জগতে কিন্তু হিসেব নিকেশের ভাষা মিলিওন, বিলিওন, ট্রিলিওন। সেটাতে যত তাড়াতাড়ি অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া যায় তত ভালাে।

গ্যালাক্সির গতিবিধি

 স্বাভাবিকভাবেই আমরা জানতে চাই এই গ্যালাক্সিগুলাে কোথা থেকে এসেছে? কেন এসেছে? কীভাবে এসেছে? আমাদের পরিচিত চাঁদ, সূর্য, গ্রহ এগুলাের গতিবিধি ব্যাখ্য করার জন্যে নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রই যথেষ্ট। কিন্তু বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই গ্যালাক্সিগুলাের গতিবিধি ব্যাখ্যা করেছে যে সূত্র সেটি হচ্ছে আইনস্টাইনের জেনারেল থিওরি অফ রিলেটিভিটি। প্রথম যখন সেই সূত্রের সমাধান করা হলাে দেখা গেল সেটি বলছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড প্রসারিত হতে পারে। আইনস্টাইন ভাবলেন সেটি কেমন করে হতে পারে?

  বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রসারণ 

বিশ্বব্রহ্মাণ্ড যে আসলেই প্রসারিত হচ্ছে সেটি বের করেছিলেন হাবল নামে একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তিনি মহাকাশের গ্যালাক্সিগুলাে একটা একটা করে দেখতে লাগলেন। গ্যালাক্সি থেকে যে আলাে আসে সেই আলােকে বিশ্লেষণ করে তিনি সেগুলাের গতিবেগ বের করতে লাগলেন।

আমাদের সাপেক্ষে গ্যালাক্সিগুলাের যদি গতি থাকে তাহলে সেই গ্যালাক্সি থেকে যদি কোনাে আলাে আমাদের কাছে আসে, আমাদের মনে হবে আলাের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যটি পরিবর্তিত হয়ে গেছে। এই পরিবর্তনের নাম ডপলার শিফট। গ্যালাক্সিটি যদি দূরে সরে যেতে থাকে তাহলে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিস্তৃত হয়ে যাবে (এটাকে বলে রেড শিফট), যদি কাছে আসতে থাকে তাহলে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সংকুচিত হয়ে যাবে (সেটাকে বলে ব্লু শিফট)। দৃশ্যমান আলােতে লাল আলাের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য লম্বা, নীল আলাের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ছােট, তাই এরকম নামকরণ। নির্দিষ্ট পরমাণু থেকে বের হওয়া তরঙ্গের দৈর্ঘ্য কত হবে সেটি জানা থাকে তাই সেটি প্রসারিত হয়েছে নাকী সংকুচিত হয়েছে সেটি বলা যায়। কাজেই গ্যালাক্সিটি কোন দিকে কত বেগে ছুটে যাচ্ছে সেটাও বের করা যায়।

হাবল দেখলেন একটি গ্যালাক্সি যত দূরে সেটি তত বেশি বেগে ছুটে সরে যাচ্ছে। যদি দেখা যায় সবগুলাে গ্যালাক্সি পরস্পরের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তার অর্থ একসময় সবগুলাে গ্যালাক্সি নিশ্চয়ই এক জায়গায় ছিল! বিশ্বব্রহ্মাণ্ড প্রসারিত হতে শুরু করায় একটি গ্যালাক্সি অন্য গ্যালাক্সি থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করেছে।

‘সবচেয়ে বড় ভুল’ 

আইনস্টাইনের জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটির সমাধানটি সঠিকভাবে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রসারণের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল। তিনি সেটা মেনে নেননি, শুধু শুধু জোর করে একটি মহাজাগতিক ধ্রুব বসিয়ে সমীকরণটিকে পরিবর্তন করেছিলেন। হাবলের পর্যবেক্ষণ থেকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রসারণের সেই বিষ্ময়কর তথ্যটি জানার পর

আনস্টাইন তার এই মহাজাগতিক ধ্রুবটিকে নিয়ে বলেছিলেন ‘এটি আমার জীবনের বড় ভূল’

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

---

জন্ম:২৩ ডিসেম্বর ১৯৫২,সিলেট। বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ফয়জুর রহমান আহমদ

এবং মা আয়েশা খাতুনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র , পিএইডি

করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটন থেকে। ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট

অব টেকনোলজি এবং বেল কমিউনিকেশান্স রিসার্চে বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করে সুদীর্ঘ

আঠারো বছর পর দেশে ফিরে এসে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান

ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।স্ত্রী প্রফেসর ড.ইয়াসমীন হক পুত্র নাবিল এবং কন্যা ইয়েসিম।