01714584920

01714584920

ALL DEPARTMENTS


Category: BOOKS | ইতিহাস | মুক্তিযুদ্ধকালীন ইতিহাস | মুনতাসীর মামুন | সময় প্রকাশন

বাংলাদেশি জেনারেলদের মন

Price: BDT 665.00


BUY NOW

---

মুনতাসীর মামুন এর বাংলাদেশি জেনারেলদের মন অরিজিনাল বইটি সংগ্রহ করুন বই বিক্রয় ডট কম থেকে।সর্বোচ্চ ছাড়ে বই কিনুন এবং বই হাতে পেয়ে মুল্য পরিশোধ করুন

  • Our price:TK.665(30%OFF)
  • Price:TK.950
  • Category:মুক্তিযুদ্ধকালীন ইতিহাস
  •  Date Published:2nd Edition 2015
  • ISBN:9789849018391
  • Language:Bangla
  • Number of pages:732
  • Country:Bangladesh
  • Publisher:সময় প্রকাশন

বইটির ভূমিকা

একটি প্রশ্ন শুধু আমার নয়, অনেকের মনেই জেগেছে বা জাগে, তাহলাে,

 গোলাম আজম নিজামীরা বাঙালি ও মুসলমান হয়ে ৩০ লক্ষ হত্যা ও .  ধর্ষণে কীভাবে সহায়তা করলেন বা সরাসরি করলেন? ইসলামের ইতিহাসে ধর্মের নামে এত মুসলমানকে কখনও হত্যা করা হয়নি । বাঙ্গালির ইতিহাসেও বাঙালিরা বাঙালিদের এ পরিমাণ হত্যা করেনি । এই প্রশ্নের উত্তর পেতে রাজাকার, আলবদরদের রচনাবলি খোজ করতে থাকি। এর অধিকাংশ প্রকাশিত হলেও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, । মােটামুটিই কিছু উপাদান সংগ্রহ করার পর দু’খণ্ডে রচনা করি রাজাকারের মন যা প্রকাশিত হয় ২০০০ ও ২০০১ সালে । ঐ বইয়ে বিশ্লেষণ করেছি। রাজাকারের মন, তাদের ভাবনা-চিন্তা, দর্শন । দেখাতে চেষ্টা করেছি কী কৌশলে তারা ইতিহাস বিকৃত করে ও তা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং সাধারণের মনােজগতে আধিপত্য বিস্তারে সচেষ্ট থাকে।

রাজাকাররা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হয়ে কাজ করেছে। এই হানাদার বাহিনী ছিল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং ধর্মের নামে তারা ৩০ লক্ষ হত্যা করেছে। এর আগে পাকিস্তান বাহিনী বীরের মতাে নিজের দেশ জয় করেছে । পৃথিবীর কোন দেশে একটি দেশের সৈন্যবাহিনী নিজ দেশের ৩০ লক্ষকে হত্যা করেনি । এটি কীভাবে সম্ভব? এর উত্তর খোঁজার জন্য আমি পাকিস্তান গেছি, জেনারেলদের/নীতি নির্ধারকদের . সঙ্গে কথা বলেছি। আমার উপলব্ধি প্রকাশ করেছি সেই সব পাকিস্তানী গ্রন্থে যা প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৯ সালে । একই সঙ্গে পাকিস্তানী জেনারেলদের লেখা বইগুলি সংগ্রহ করে তথ্য আহরন করতে থাকি এবং ২০১০ সালে প্রকাশিত হয় পাকিস্তানী জেনারেলদের মন। খুঁজে পাই। পাকিস্তানবাদকে। পাকিস্তান একটি প্রত্যয়। এই প্রত্যয়ের অন্তর্গত। চরম রক্ষণশীলতা ও সংকীর্ণতা, ধর্মের ব্যবহার, গােষ্ঠি স্বার্থ, সহিংসতা, অসম্ভব ভারত বিরােধিতা, জিঘাংসা এবং সিভিল কর্তৃত্ব

বিনাশ।

পাকিস্তানী জেনারেলদের নিয়ে তথ্য আহরণের সময় মনে আচ্ছা, বাংলাদেশের জেনারেলদের বা সৈনিক কর্মকর্তাদের আচরন কেনাে পাকিস্তানীদের মতাে। তখন তাদের লেখা বইপত্রও সংগ্রহ করতে থাকি। এবং তারপরগত দুই বছর ধরে নানা কাজের ফাঁকে বইটি লিখতে থাকি। এবং যতই লেখা অগ্রসর হতে থাকে ততই আশ্চর্য হয়ে আবিষ্কার করি, এ বইয়ের উপসংহারও হবে পাকিস্তানী জেনারেলদের মন-এর মতাে। এর কারণ কী? মূল কারণ, যৌবনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাকুল একাডেমীর প্রশিক্ষণ। সেটি এতাে জোরালাে যে, মুক্তিযুদ্ধও তাতে বদল করতে পারেনি।

বাংলাদেশি জেনারেলদের মন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কোন বই নয় । এ বইয়ে বােঝার চেষ্টা করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে যােগ দিয়ে, স্বাধীন দেশে বসবাস করে, বিজয়ী হয়ে তারা কেনাে পরাজিত বাহিনীর দর্শন ধারণ করেন । লক্ষনীয়, এখানে ২১ জন জেনারেলের মধ্যে ২০ জনই কাকুলে প্রশিক্ষিত ।

সুতরাং, কাকুল যে তাদের মধ্যে পাকিস্তান প্রত্যয় গেঁথে দিয়েছিল। তা অস্বীকারের উপায় কী!

এখানে যে ২১ জনের [সংবাদপত্রের প্রতিবেদনসহ] রচনার ওপর ভিত্তি করে বইটি রচিত তাদের মধ্যে ১১ জন বিভিন্ন স্তরের জেনারেল। বাকীরাও জেনারেল হতে পারতেন যদি না স্বেচ্ছায় অবসর নিতেন বাধ্যতামূলক অবসরে যেতেন । এদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুক্তিযােদ্ধা ও ৯ জন উপাধিধারী। এরা সবসময় কোনাে না কোনভাবে ক্ষমতা ভােগ করেছেন। দেশ শাসন করেছেন, দেশের মৌল দর্শন বিনষ্টে প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছেন, নিপীড়ন চালিয়েছেন, দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্ব। সৃষ্টি করেছেন। এদের রচনা পড়ে দেখবেন, পাকিস্তানবাদ থেকে এরা বেরুতে পারেন নি। এই বই লেখা হয়েছে এ কারণে যে, সত্যের বা ইতিহাসের মুখােমুখি আমাদের হতে হবে । এবং তার মুখােমুখি হয়ে, আত্মসমালােচনা করে সঠিক পথ খুঁজে নিতে হবে । জেনারেলদের লেখা বইগুলি না পড়লে এদের মনের খোঁজ পেতাম না এবং কেনাে প্রায় চার  দশক তারা পরাজিতদের অনুসরণ করেছে তার হদিস পেতাম না।

 সেনাবাহিনীতে এখন আর কাকুল সংস্কৃতির কেউ নেই। যারা এখন নেতৃত্বে তারা এখানেই প্রশিক্ষিত । তবে, কাকুলীয়দের সঙ্গে চাকরি করার কিছুটা প্রভাব থাকতেই পারে যেমন ছিল জেনারেল মইনের মধ্যে। কিন্ত আশা করি তারা সেটি কাটিয়ে উঠবেন এবং তাদের

প্রশিক্ষনে যদি কাকুলীয় সংস্কৃতির রেশ এখনও থাকে তাহলে তা বিনাশ করার এটিই সময়।

আমরা চাই আমাদের সেনাবাহিনী বাংলাদেশের সেনাবাহিনী হবে । তারা বিজয়ীদের উত্তরাধিকারী, বাঙালি সংস্কৃতির ধারকবাহক এবং সে কারণে মান্য করবে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। আমরা গর্ব করতে চাই। আমাদের সেনাবাহিনী নিয়ে।

কাকুলে প্রশিক্ষিত সবাই যে একই ধাঁচের ছিলেন তা নয়। ব্যতিক্রম আছে এবং সেটও নিয়মের মধ্যে পড়ে। সবাই যদি তাদের অনুসারি হতাে তাহলে এতাে বিপর্যয়ের সম্মুখীন আমরা হতাম না ।

একজন সৈনিককে আমার সহযােগী, আমার বন্ধু হিসেবে পেতে চাই, প্রতি পক্ষ হিসেবে নয়। এটিই বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষদের

বর্তমান গ্রন্থ দুটি পর্বে বিভক্ত। প্রথম পর্ব- “নিজের দেশ জয় করা। এখানে বিভিন্ন সময়ের সেনা শাসনের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্ব- ‘জেনারেলদের বয়ান’। এখানে জেনারেলরা যা লিখেছেন তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত টেক্সট হিসেবে তাদের আরাে কিছু রচনা পরিশিষ্টে দেয়া হয়েছে।

দশ বছর আগে প্রকাশক ফরিদ আহমদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলাপ হয়। গত এক দশক তিনি বইটির জন্য অপেক্ষা করেছেন । বইটি প্রস্তুত ও প্রকাশ করতে পেরে আমরা দুজনই আনন্দিত।

মুনতাসীর মামুন।

 ইতিহাস বিভাগ। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১লা ফাল্গন, ১৪১৯