01714584920

01714584920

ALL DEPARTMENTS


Category: BOOKS | সময় প্রকাশন

জিয়া-মঞ্জুর হত্যাকান্ড এবং তার পর এ.এস.এম. সামসুল আরেফিন

Price: BDT 280.00


BUY NOW

---

 

 এ.এস.এম. সামসুল আরেফিন এর জিয়া-মঞ্জুর হত্যাকান্ড এবং তার পর অরিজিনাল বইটি সংগ্রহ করুন বই বিক্রয় ডট কম থেকে।সর্বোচ্চ ছাড়ে বই কিনুন এবং বই হাতে পেয়ে মুল্য পরিশোধ করুন।

 

  •  Price:TK.280
  • Our price:TK.350 (20%OFF)
  • Author:এ.এস.এম. সামসুল আরেফিন
  • Category:স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশ
  • Number of pages:288
  • Edition: 2014

ভূমিকা

বিচারপতি সায়েমের প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল জিয়াউর রহমানের সেনাধ্যক্ষ হওয়ার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে শুরু হয় এক অন্য ধারার রাজনীতি যার সঙ্গে মিল আছে। ১৯৫৮-১৯৬৮ সালের আইয়ুব খানেক পাকিস্তানী আমলের। জেনারেল জিয়া। বাংলাদেশের রাজনীতিতে একাধিপত্য সৃষ্টি ও বজায় রাখতে চেয়েছিলেন । এবং এ কারণে তিনি বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন । এর মধ্যে অন্যতম হলাে, সামরিক বাহিনীতে তাঁর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা, মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের বিপরীতে নিজেকে তুলে ধরা ।

 জেনারেল জিয়ার শাসনামল আলােচনা করা এ ভূমিকার উদ্দেশ্য নয়। সংক্ষেপে বলতে পারি, ক্ষমতা দখলের পর যে সব প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন তার কোনটিই তিনি প্রায় রক্ষা করতে পারেননি। গণতন্ত্রায়নের কথা তিনি বলেছিলেন কিন্তু সমাজের চেয়েছিলেন সামরিকায়ন। এ ছাড়া গণতন্ত্রের উন্নতি নির্ভর করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর। বলা যেতে পারে দুক্ষেত্রেই তিনি হয়ে ছিলেন ব্যর্থ। জেনারেল জিয়ার ঘনিষ্ঠজন ডা. জাফরুল্লাহ। চৌধুরী বলেছিলেন-“একটা সময় আমরা সবাই তাঁকে বিশ্বাস করেছিলাম। আমরা সবাই বিশ্বাস করেছিলাম যে জেনারেল জিয়া সত্যিই আমাদের দেশটিকে প্রগতিশীল সমাজতন্ত্রী ও সংবেদনশীল সমাজ নির্মাণ করতে চান। কিন্তু শীঘ্রই আমরা অনুধাবন করলাম জিয়া শুধু শব্দ নিয়ে খেলছেন পবির্তন নিয়ে তাঁর কোন মাথাব্যথা ছিল না। তিনি শুধু তাঁর রাজনৈতিক উচ্চাশাকে নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন।”

জেনারেল জিয়ার এক সময়ের সহকর্মী এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ মন্তব্য করেছিলেন-“জিয়া সবাইকে ও সবকিছুকে সম্পূর্ণ দূষিত করেছে। জাতির অবমাননার ক্ষেত্রে শেখ মুজিব থেকে তাঁর অবদান বেশি।”

অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, কয়েক বছরের জন্য হলেও জিয়ার আমলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছিল । তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়, অবস্থা যদি স্থিতিশীলই হয়, তবে কুড়িটির মতাে সামরিক অভ্যুত্থানের মুখােমুখি কেন তাঁকে

হতে হয়েছিল? ১৯৮০ থেকেই জেনারেল জিয়ার বিরুদ্ধে সমাজে প্রতিরােধ জোরদার হয়ে। উঠতে থাকে । এ কথাও তখন বলা হচ্ছিল, যে ভায়ােলেন্ট উপায়ে তিনি ক্ষমতায়। গিয়েছিলেন এবং নিজ আধিপত্য বজায় রাখার জন্য যে ভায়ােলেন্ট পদ্ধতি বেছে নিয়েছিলেন তাতে হয়ত তাঁকেও ভায়ােলেন্ট উপায়ে চলে যেতে হবে ।  তিনি, জেনারেল জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সিভিল সমাজে যে ক্ষত সৃষ্টি করেছিলেন এখনও তা শুকোয়নি। তিনি শুধু আমাদের নয়, আমাদের দেশের জন্মকেই অপমান করেছিলেন। প্রথমদিকে তিনি মানুষের মাঝে প্রচারের কারণে যে মােহ সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন ক্রমেই তা দূরীভূত হচ্ছিল এবং সিভিল সমাজের তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিরােধ গড়ে উঠেছিল । সিভিল সমাজের পুঞ্জিভূত ক্রোধ দমনের জন্য তিনি বেশ কিছু কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছিলেন কিন্তু তার আগেই সেনাবাহিনীর

    জেনারেল জিয়া নিহত হলেন । এবং অভ্যুত্থানের নায়ক হিসেবে চিহ্নিত হলেন জেনারেল আবুল মঞ্জুর । কিন্তু, সেদিন বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই তা বিশ্বাস করেননি। কারণটি কি? কারণ হলাে একজন বীর মুক্তিযােদ্ধা ও সৎ এবং নির্ভীক অফিসার হিসেবে তাঁর সুনাম ছিল । আরাে সুনাম ছিল সেনাবাহিনীর বুদ্ধিজীবী হিসেবে। তা ছাড়া জেনারেল জিয়ারও ছিলেন তিনি ঘনিষ্ঠ । সাধারণ ধারণা ছিল এ রকম যে, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কেউ তাঁর ভাঁধে বন্দুক রেখে জেনারেল জিয়াকে হত্যা করেছে। এবং সুচতুর যে ব্যক্তি এমন পটভূমি ও পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে জেনারেল মঞ্জুর তা থেকে বেরুতে পারেননি।

    পারেননি মুক্তিযােদ্ধা অফিসাররাও। একই সঙ্গে সেই ব্যক্তি জেনারেল জিয়া ও মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানীদের হত্যা করেছিলেন । এবং তার পেছনে ছিল সেনাবাহিনীর পাকিস্তানপন্থী ও অন্যায় সুযােগ সুবিধা পাওয়া একটি অংশ। | জেনারেল মঞ্জুর গ্রেপ্তার হওয়ার এবং তার পরবর্তী ঘটনাবলীও খুব একটা বিশ্বাসযােগ্য ছিল না। গ্রেপ্তার হওয়ার পর জেনারেল মঞ্জুর এবং তাঁর স্ত্রী বারবার গ্রেপ্তারকারীদের কাছে আকুতি জানিয়েছিলেন জেনারেলকে যেন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় কারণ, আমাদের সেনাবাহিনী সম্পর্কে তখন এ ধারণা ছিল যে, তারা শত্রুকে নয় নিরস্ত্র ও নিরপরাধ মানুষ খুন করতে দক্ষ। নিজেদের মধ্যে খুনােখুনিতেও তারা দক্ষ । জেনারেল মঞ্জুর তা জানতেন । জানবেন না কেন? তিনিও তাে সেনাবাহিনীতেই ছিলেন। তাঁর আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়নি । যদ্দুর মনে পড়ে, ঐ সময় শুনেছিলাম এবং খবরের কাগজে পড়েছিলাম, জেনারেল মঞ্জুরকে জিপের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে টেনে হিচড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং তারপর মাথার পেছন থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল । ফলে, এ ধারণা হয়েছিল যে, জিয়া


    হত্যার মূল ষড়যন্ত্রকারী অন্য কেউ, জেনারেল মঞ্জুর ছিলেন ডামি মাত্র। বেগম জিয়ার সবচেয়ে কাছের লােক বলে একসময় পরিচিত, তকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লে. কর্ণেল মােস্তাফিজুর রহমান তাঁর স্মৃতিকথায় লিখেছিলেন : | “প্রকৃতপক্ষে মঞ্জুরকে মাথার পেছন দিক থেকে গুলি করে যেভাবে হত্যা করা হয় তার আলামত থেকে বােঝা যায় মঞ্জুর পালাতে চাননি, তাকে পরিকল্পিতভাবেই হত্যা করা হয়েছে। শহীদ জিয়ার হত্যার পেছনে রহস্য উদঘাটনে বাঁধা প্রদানই ছিল এই হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য । অথচ দেশ ও জাতির কাছে প্রকৃত রহস্য উন্মোচনের জন্য মঞ্জুরকে রাখা খুবই প্রয়ােজন ছিল … আমি সাধ্যমতাে চেষ্টা করেছি মঞ্জুরকে পুলিশের হেফাজতে রাখতে। অথচ সৈন্যরা মঙুরকে এভাবে কোনাে সময় না দিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে যাবে এটা ভাবতেই পারিনি। আর এভাবে ব্যর্থ হলাম বলে ইতিহাসের খলনায়ককে আমরা তখন সরাসরি ধরতে পারলাম না। কর্ণেল মােস্তাফিজ কিন্তু এ কথা তখন বলেননি।

    জিয়া হত্যা মামলার তদন্তের জন্য ৭/৬/১৯৮১ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রুহুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির অন্য দু’জন সদস্য ছিলেন, বিচারপতি এ টি এম আফজাল ও খুলনার সেসন জজ সৈয়দ সিরাজুল আহমদ।

    অন্যদিকে, একই সঙ্গে চট্টগ্রামে ১১/৭/৮১ তারিখে কথিত অভিযুক্তদের কোর্ট মার্শাল শুরু হয়। বিচার বিভাগীয় তদন্তে শুধু “ষড়যন্ত্রকারী কারা ও তাদের উদ্দেশ্য কি কি ছিল? তা জানতে চাওয়া হয়েছিল । | প্রথম থেকেই বিরােধীদল ও বুদ্ধিজীবীরা কোর্ট মার্শালের ব্যাপারটিতে সন্দিহান ছিলেন। তাদের ধারণা হয়েছিল সামরিক আদালতে ন্যায্য বিচার হবে।

     আর যে প্রশ্নটি সবাই করছিলেন তা হলাে কোর্ট মার্শালই যদি হবে তাহলে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কেন ? আসলে জেনারেল এরশাদ যিনি এ সময় ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক ছিলেন তিনি হয়ত এর মাধ্যমে একটি ধোঁয়াশা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, কথিত অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়া। যে কারণে ৯/৬/১৯৮১ সালে তিনি বলেছিলেন “যে কোর্টেই হােক তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।” এবং ২১/৯/১৯৮১ তারিখ অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। জেনারেল এরশাদ তখন বলতেন, “আমার হাতে রক্তের কোন দাগ নেই।” সামরিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে রিট করা হয় কিন্তু আদালত তা নাচক করে দেয়। তারপর ? মানুষ এ ঘটনা ভুলে যেতে থাকে।

    (৪) মঞ্জুর হত্যা মামলা দিয়ে আবার নাড়াচাড়া শুরু হয় ১৯৯৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে।

    জেনারেল মঞ্জুরের ভাই ব্যারিস্টার আবুল মনসুর মামলা দায়ের করেন। তারপর ঘটনা দ্রুত এগােতে থাকে। সেনাবাহিনীর অনেকে গ্রেফতার হতে থাকে । বেগম জিয়ার পদক্ষেপ তখন ইতিবাচক বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে সবাই একথাও বলেছিলেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে এ মামলা শুরু হয়েছে, উদ্দেশ্য তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জেনারেল এরশাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা । তবে, আরাে কারণও থাকতে পারে । মতিউর রহমান লিখেছেন, “অনেকে মনে করেন, দীর্ঘ ১৪ বছর পর মামলা দায়ের করা হয়েছে সম্ভবত এ কারণে যে আগে এটা করা বাস্তব কারণেই অসম্ভব ছিল …… ডিসেম্বর ‘৯০-এ এরশাদের পতন হলাে কিন্তু তার নিযুক্ত সেনাপ্রধান লে. জেনারেল নুরুদ্দিন খান থেকে গেলেন আগস্ট ‘৯৪ পর্যন্ত । মে ‘৮১-তে নুরুদ্দিন ছিলেন চিফ অফ জেনারেল স্টাফ (সি। জি এস) যা সেনাবাহিনীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কেন্দ্রীয় পদ। সামরিক গােয়েন্দা (এম আই) এবং সামরিক অপারেশন (এমও) উভয়ই তার অধীন। তাই সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল নুরুদ্দিনের অবস্থান কালে সম্ভবত কোনাে মামলা দায়ের সম্ভব ছিল না।” | আসলে, মঞ্জুর হত্যা মামলা শুরু হওয়ার সময়ই অনেকে ধারণা করেছিলেন, একটা পর্যায় চলে এ মামলা থেমে থাকবে । কারণ মামলায় অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ না হলে এমন অনেকে জড়িয়ে যেতে পারেন যা এস্টাবব্লিশমেন্ট ও এলিট শ্রেণীর একাংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে । বস্তুত তাই হয়েছে। এ ছাড়া, মতিউর রহমানের কথার সূত্র ধরে বলতে হয়, জেনারেল নুরুদ্দিন এখন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী | মন্ত্রী। সুতরাং এই মামলা চলার কি এখনও কোন বাস্তব কারণ আছে ? | জেনারেল জিয়া নিহত হওয়ার পর যখন সব মুক্তিযােদ্ধা অফিসারদের কোট মার্শাল করা হয়েছে এবং যখন সবাই এর বিরােধিতা করেছেন তখন বিএনপি নিশ্ৰুপ থেকেছে। শুধু তাই নয় বিএনপির একজন মুখপাত্র তখন বলেছিলেন (২২/৮/৮১) “প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অবশ্যই দিতে হবে। এ ব্যাপারে কোনাে শৈথিল্য জনগণ বরদাশত করবে না।” সেই বিএনপি যদি আবার জিয়া হত্যার “প্রধান নীলনকশা” কারী [!] মঞ্জুর হত্যার বিচার শুরু করে তখন বিষয় দুটি হয়ে যায় পরস্পর বিরােধী । এবং তখনই এসব হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার সম্পর্কে মানুষ সন্দিহান হয়ে ওঠে। | জেনারেল জিয়া ও মঞ্জুর হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তৎকালীন বিরােধী দলীয় নেতা যা বলেছিলেন সব হত্যাকাণ্ড সম্পর্কেই আসলে তা প্রযােজ্য । ৩ জুন ১৯৮১ সালে জেনারেল জিয়ার ওপর শােক প্রস্তাবে জনাব আসাদুজ্জামান খান বলেছিলেন, “এটি এমন এক মুহূর্তে যখন বিতর্কিত কোন কিছু উঠুক তা আমরা চাই না, আমরা চাই দেশের শান্তি সংহতি দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা, কাজেই সংসদ নেতা যে সব রাজনৈতিক বক্তব্য রেখেছেন

     আমি মনে করি সেগুলাের অবতারণা এখানে না করা ভাল ছিল । শােক প্রস্তাবের মধ্যেই তার বক্তব্য সীমাবদ্ধ থাকা উচিত ছিল । আমরা এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বিশ্বাস করি না এবং নিন্দা করে আসছি সব সময়… এর আগেও নির্মম হত্যা হয়েছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হয়েছিলেন কতিপয় দুস্কৃতকারীর হাতে । পরবর্তীতে জেলখানাতেও চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল নৃশংসভাবে। আমরা তখন থেকেই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এভাবে হত্যা দেশে কোনােদিন কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। এ জন্য আমরা অত্যন্ত ব্যথিত । এ ধরনের ঘটনা যাতে বাংলার মাটিতে না ঘটে সে পদক্ষেপ নেয়ার আবেদন বহুবার জানিয়েছি। আজকে আমরা সত্যই মর্মাহত। কেন এ ঘটনা ঘটল ? আমরা এসব হত্যাকাণ্ড থেকে মুক্ত থাকতে চাই”।

    অবশ্যই আমরা রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড মুক্ত দেশ চাই। তবে, সঙ্গে সঙ্গে একথাও স্মরণ রাখা বাঞ্ছনীয় যে, হত্যা করলে বিচার হয় এটিই সভ্য সমাজের রীতি। হত্যা করলে বিচার হবে এটিই মানুষের কাছে সরকারের দায়বদ্ধতা। এবং কোনাে না কোনাে সময় উল্লিখিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মােচিত হবে। জনাব আরেফিন বহু পরিশ্রম করে জেনারেল জিয়া ও মঞ্জুর হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত রির্পোটি/লেখা যােগাড় করে সংকলন করেছেন। এসবের ভিত্তি। সংবাদপত্র । আমাদের দেশে সংরক্ষণের কোনাে ঐতিহ্য নেই। আমি নিশ্চিত আজ থেকে কিছুদিন পর এই নির্দিষ্ট বিষয়ে কেউ কিছু জানতে চাইলে জনাব আরেফিনের বইটি হয়ে উঠবে অবশ্য প্রয়ােজনীয়। তার প্রতি রইল অভিনন্দন।

    মুনতাসীর মামুন

    ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়